top of page

বর্তমান ছাত্রসমাজ ও সুভাষচন্দ্রের বাণী

Listen to this Podcast for Free from our YouTube channel :

Script & Voice Over - Rajdeep


“কাল অনন্ত বেগে চলছে – এই স্রোতে কত পরিচিত মুখ অপরিচিতের আলো আঁধারিতে মিলিয়ে গেল – কত নতুন মুখ অস্পষ্ট থেকে স্পষ্টতর হচ্ছে।” সব দেশের সব কালের পক্ষে, সে-দেশের সে-কালের শক্তি ও অগ্রগতির উৎস তার তরুণসমাজ। কিন্তু আজকের তরুণসমাজ অতিশয় লক্ষ্যভ্রষ্ট। কঠিন পণের বাঙালি আজ কোথায়? ‘স্রোতে গা ভাসিয়ে দেওয়া সাধারণ মানুষের চরিত্র’। ভারতবর্ষের এক প্রতিম ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষারত আমি নিশ্চয়ের সাথে বলতে পারি বর্তমান ভারতের শিক্ষা ব্যাবস্থা সহ ছাত্র ও শিক্ষকের মনোভাব সবই আজ যন্ত্রের মতো হয়ে গাচে। কালের নিয়মে সবকিছু চলছে নিজের গতিতে। কিন্তু কোনকিছুর মধ্যেই প্রাণ নেই। এই যন্ত্রের বাইরে বেড়িয়ে যে জীবনযাপন করতে উদ্যত হবে, সে অনায়াসেই ‘যন্ত্র’ বলে চিহ্নিত হবে। ছাত্র-সংসদ ও শিক্ষক-সংসদ সবই আছে, কিন্তু তারা প্রাথমিক কাজের থেকে আনুসঙ্গিক কর্মকাণ্ডে বেশী প্রাধান্য দেয়। দফায় দফায় বসে মিটিং কিন্তু আদর্শহীন লক্ষ্যচ্যুত ছাত্রগণ কোন ফলপ্রসূ সিদ্ধান্ত নিতে অক্ষম হয়। ছাত্র-সংসদের সর্বপ্রধান কাজ হওয়া উচিত academic discipline মেনে চলা এবং academic environment বজায় রাখা। কিন্তু চরিত্র গঠনকে দূরে সরিয়ে তারা প্রাধান্য দেয় কলেজ ফেস্ট এবং নানা রকম কলেজ সোসাইটির কার্যকলাপের দিকে। আমি বলছি না এগুলো সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয়; কিন্তু নিজেদের আত্মিক উন্নতি করা জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের কর্তব্য যাতে আমরা পরবর্তী সময়ে মানবজাতির কাজে লাগতে পারি। The system is in our hands, but we are not running it properly.


বর্তমান ছাত্রসমাজকে আমি মনে করিয়ে দিতে চাই দেশনায়ক সুভাষচন্দ্র বসুর অমূল্য বাণী - ‘তোমরা মরণজয়ী’ : “আমি একটি কথার উল্লেখ করিতে পারি যাহা আমরা প্রায় শুনিয়া থাকি – ‘ছাত্রানাং অধ্যয়নং তপো’ – অধ্যয়নই ছাত্রজীবনের তপস্যা – এই বচনের দোহাই দিয়ে ছাত্রদিগকে দেশসেবার কার্জ করিতে নিরস্ত্র রাখার চেষ্টা অনেকেই করে থাকে। অধ্যয়ন কোনদিনই তপস্যা হইতে পারে না। অধ্যয়ন কতগুলি গ্রন্থপাঠ ও কতগুলি পরীক্ষা পাস। ইহার দ্বারা মানুষ স্বর্ণ পদক লাভ করিতে পারে, হয়তো বড় চাকুরীও পাইতে পারে, কিন্তু মনুষ্যত্ব অর্জন করিতে পারে না। পুস্তকপাঠ করিয়া আমরা উচ্চভাগ বা আদর্শ শিক্ষা করিতে পারি। একথা সত্য। কিন্তু সেসব ভাগ আমরা যে পর্যন্ত উপলব্ধি ও হৃদয়ঙ্গম করিয়া কার্জে পরিণত না করিতেছি, সে পর্যন্ত আমাদের চরিত্র গঠন হইতে পারে না। তপস্যার উদ্দেশ্য সত্যকে উপলব্ধি করা। শ্রবণ, মনন, নিত্যসাধন, প্রভৃতি উপায় তদ্ভাবিত হইয়া সত্যের সহিত মিশিয়া যায়। সে অবস্থায় মানুষ যখন পৌঁছায় তখন তার জীবনের রূপান্তর হয়। সে জীবনের প্রকৃত অর্থ ও উদ্দেশ্য বুঝিতে পারে এবং অন্তর্লুব্ধ নতুন শক্তি ও আলকের দ্বারা নতুন পথে নতুন করে তাহার জীবন নিয়ন্ত্রিত করে। এইরূপ সাধনায় সিদ্ধিলাভ করিতে হলে অল্প বয়স হইতেই কাজ আরম্ভ করা আকস্মিক; যখন মানুষের অদম্য শক্তি ও উৎসাহ আছে, অফুরন্ত কল্পনাশক্তি ও ত্যাগস্পৃহা আছে…”


“মুঞ্জরিত পদধ্বনি গুঞ্জরিত হবেই। প্রতিধ্বনি অলীক, মূলহীন, উৎপত্তিস্থলহীন হতে পারে না। উৎসাহ থেকেই প্রতিধ্বনির উৎপত্তি – বিস্তার – এবং পূর্ণ বিস্তৃত হবার পরে উৎপত্তিস্থল পুনরাগমন।“ তরুণসমাজের সামনে উন্মুক্ত পথ রয়েছে। শুধু অভাব চালকের। বিহ্বল হৃদয় তুলে ধরে তোমার কাছে আমার একটিই নিবেদন:

"পুনরাগমনায় চ"





Recent Posts

See All

Comments


bottom of page